3:16 am, Saturday, 13 December 2025

ছাত্রলীগের সভাপতি – সম্পাদক সহ ১৩ জন বহিষ্কার

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:43:15 pm, Tuesday, 2 December 2025
  • 35 Time View

আসাদুল্লাহ আল গালিব, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ — জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি–সম্পাদকসহ ১৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।

গত জুলাইয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে তাদের বাধা, হুমকি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রসংগঠন নেতাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ১৬ এপ্রিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলাকে আহ্বায়ক করে একটি ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন মাস ধরে তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগের একটি বড় অংশকে সত্য বলে চিহ্নিত করে।

পরবর্তীতে প্রতিবেদন শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হলে শিক্ষক–কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তির সুপারিশ করে কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক–কর্মকর্তারা

  • সাবেক প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি
  • ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. মেহেদী উল্লাহ
  • সাবেক রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর
    তিনজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

বহিষ্কৃতদের তালিকায় আছেন—

  • জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মাহমুদ কায়েস
  • সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রিয়েল
    এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের আরও ১১ জন শিক্ষার্থী

যারা এখনো অধ্যয়নরত, তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর যারা ইতোমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের স্নাতক–স্নাতকোত্তর সনদ বাতিল করা হয়েছে।

প্রশাসনের অবস্থান

সিন্ডিকেট জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল—এ কারণেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন বলছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ছাত্রলীগের সভাপতি – সম্পাদক সহ ১৩ জন বহিষ্কার

Update Time : 06:43:15 pm, Tuesday, 2 December 2025

আসাদুল্লাহ আল গালিব, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ — জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি–সম্পাদকসহ ১৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।

গত জুলাইয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে তাদের বাধা, হুমকি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রসংগঠন নেতাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ১৬ এপ্রিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলাকে আহ্বায়ক করে একটি ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন মাস ধরে তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগের একটি বড় অংশকে সত্য বলে চিহ্নিত করে।

পরবর্তীতে প্রতিবেদন শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হলে শিক্ষক–কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তির সুপারিশ করে কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক–কর্মকর্তারা

  • সাবেক প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি
  • ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. মেহেদী উল্লাহ
  • সাবেক রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর
    তিনজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

বহিষ্কৃতদের তালিকায় আছেন—

  • জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মাহমুদ কায়েস
  • সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রিয়েল
    এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের আরও ১১ জন শিক্ষার্থী

যারা এখনো অধ্যয়নরত, তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর যারা ইতোমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের স্নাতক–স্নাতকোত্তর সনদ বাতিল করা হয়েছে।

প্রশাসনের অবস্থান

সিন্ডিকেট জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল—এ কারণেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন বলছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।