4:22 am, Monday, 1 December 2025

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলা—প্রশ্নের মুখে রায় ও ন্যায়বিচার: আদালতে টিকবে কি?

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:11:42 pm, Friday, 28 November 2025
  • 33 Time View

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর গত এক বছরে ৬৬৩টিরও বেশি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে বহু মামলাই হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা। দ্রুত সময়ের মধ্যে কয়েকটি মামলার রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত।

তবে এসব মামলার প্রমাণ, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন— বর্তমান অবস্থায় অধিকাংশ মামলাই আদালতে টেকে থাকার সম্ভাবনা কম।

১. দুর্বল প্রমাণ ও ফরেনসিক ঘাটতি

গুরুতর অপরাধের তদন্তে প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট, ডিএনএ, ভিডিও ফুটেজ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ঘাটতি উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। অধিকাংশ মামলাই অভিযোগনির্ভর, যা আদালতে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি করছে।

২. সাক্ষ্যদাতার অসামঞ্জস্য

বহু মামলায় নির্ভরযোগ্য সাক্ষীর অভাব—or সাক্ষ্যে অসামঞ্জস্য—বিচারপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তুলছে।
মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ‘credible witness’ ছাড়া গুরুতর অভিযোগের রায় সাধারণত টেকে না।

৩. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে কেন্দ্র করে ‘বেছে বেছে মামলা’ করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বিচারব্যবস্থায় Selective Prosecution—বিচারের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৪. সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ নেই

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আনা অভিযোগগুলোতে কোনো মামলায়ই সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানাচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনে শুধু ‘ক্ষমতা ছিল’—এমন যুক্তিতে শাস্তি দেওয়া যায় না।

৫. আইনি কাঠামোর ভুল ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তী বা ইন্টারিম সরকার সম্পর্কিত কোনো ধারা নেই।
এর ফলে বর্তমান সরকারের বৈধতা ও তার অধীনে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আইনকদের মধ্যে বিতর্ক বাড়ছে।

৬. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ হয়নি

জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে— বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বিচারকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে রায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না— সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

৬৬৩টি মামলা—সংখ্যাটি যেমন নজরকাড়া, তেমনি এসব মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে প্রশ্নও দিন দিন বাড়ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং স্বচ্ছতা ছাড়া এসব রায় টেকসই হবে না।
ইতিহাসে যেমন, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায়ও— টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৩ বছরের শিশু সার্ভিয়া হাসান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী: গল্পের বই প্রকাশের বিশ্বসেরা ছোট্ট লেখিকা

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলা—প্রশ্নের মুখে রায় ও ন্যায়বিচার: আদালতে টিকবে কি?

Update Time : 07:11:42 pm, Friday, 28 November 2025

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর গত এক বছরে ৬৬৩টিরও বেশি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে বহু মামলাই হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা। দ্রুত সময়ের মধ্যে কয়েকটি মামলার রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত।

তবে এসব মামলার প্রমাণ, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন— বর্তমান অবস্থায় অধিকাংশ মামলাই আদালতে টেকে থাকার সম্ভাবনা কম।

১. দুর্বল প্রমাণ ও ফরেনসিক ঘাটতি

গুরুতর অপরাধের তদন্তে প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট, ডিএনএ, ভিডিও ফুটেজ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ঘাটতি উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। অধিকাংশ মামলাই অভিযোগনির্ভর, যা আদালতে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি করছে।

২. সাক্ষ্যদাতার অসামঞ্জস্য

বহু মামলায় নির্ভরযোগ্য সাক্ষীর অভাব—or সাক্ষ্যে অসামঞ্জস্য—বিচারপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তুলছে।
মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ‘credible witness’ ছাড়া গুরুতর অভিযোগের রায় সাধারণত টেকে না।

৩. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে কেন্দ্র করে ‘বেছে বেছে মামলা’ করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বিচারব্যবস্থায় Selective Prosecution—বিচারের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৪. সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ নেই

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আনা অভিযোগগুলোতে কোনো মামলায়ই সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানাচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনে শুধু ‘ক্ষমতা ছিল’—এমন যুক্তিতে শাস্তি দেওয়া যায় না।

৫. আইনি কাঠামোর ভুল ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তী বা ইন্টারিম সরকার সম্পর্কিত কোনো ধারা নেই।
এর ফলে বর্তমান সরকারের বৈধতা ও তার অধীনে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আইনকদের মধ্যে বিতর্ক বাড়ছে।

৬. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ হয়নি

জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে— বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বিচারকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে রায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না— সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

৬৬৩টি মামলা—সংখ্যাটি যেমন নজরকাড়া, তেমনি এসব মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে প্রশ্নও দিন দিন বাড়ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং স্বচ্ছতা ছাড়া এসব রায় টেকসই হবে না।
ইতিহাসে যেমন, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায়ও— টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।